ম্যাজিকবয় মেসির স্বপ্ন পূরণ, ২৮ বছর পর শিরোপা আর্জেন্টিনার

স্পোর্টস ডেস্ক: এই একটি শিরোপার জন্য মরিয়া ছিলেন ফুটবলের ম্যাজিকবয় লিওনেল মেসি। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষা। অবশেষে শিরোপা ঘরে তুললেন মেসিরা। ফুটবলের এই ম্যাজিকবয়ের বর্তমান বয়স ৩৪। হয়তো আগামী ২০২২ বিশ্বকাপের পর অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।

মেসির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে বহু অর্জন থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপার স্বাদ পাচ্ছিলেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হলো। শিরোপায় চুমু খেলেন মেসি। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ব্রাজিলের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে শিরোপা ঘরে তুললো আলবিসেলেস্তেরা।

দারুণ ছন্দে থেকেও বছরখানেক আগে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে জায়গা হচ্ছিলো না ডি মারিয়ার। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে কয়েকমাস আগেই ফেরেন দলে। কোপা আমেরিকায়ও নিয়মিত একাদশে স্থান হচ্ছিলো না পিএসজি তারকার। কলম্বিয়ার বিপক্ষে বাজে ভুলে গোলও করতে ব্যর্থ হন ডি মারিয়া।

তবে ফাইনালে কোচ লিওনেল স্কালোনি ভরসা রাখেন অভিজ্ঞ মারিয়ার উপর। শুরুর একাদশে জায়গা পেয়ে আর্জেন্টাইন কোচের ভরসার মর্যাদা দিতে কার্পণ্য করেননি নাম্বার ইলেভেন। একমাত্র গোলে আজকের ম্যাচের নায়ক ডি মারিয়া হলেন ম্যাচসেরা।

গোটা আসরে দারুণছন্দে থাকা লিওনেল মেসি হয়েছেন বেস্ট প্লেয়ার। সঙ্গে টপ স্কোরারের খেতাবটাও আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের ঝুলিতে। তবে সব ছাড়িয়ে শিরোপাটাই মুখ্য মেসির কাছে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেরও সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। তবে সেবার জার্মানির কাছে শিরোপা হারায় বেস্ট হওয়ার আনন্দের ছাপ ছিল না মেসির চেহারায়। এবার দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো ৩৪ বছর বয়সী কিংবদন্তি ফুটবলারের।

সেমিফাইনালের নায়ক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ হয়েছেন কোপা আমেরিকার সেরা গোলরক্ষক। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ চারের লড়াইয়ে টাইব্রেকারে দারুণ তিনটি সেভ করেন অ্যাস্টন ভিলার গোলরক্ষক। ফাইনালেও দুর্দান্ত একটি সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন মার্টিনেজ।

ঐতিহাসিক মারাকানায় ৭১ বছর পর ফাইনালে হারলো ব্রাজিল। ১৯৫০ সালের মারাকানা ট্রাজেডির পর আর একটি ম্যাচেও হারেনি সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে উরুগুয়ের কাছে হারে ফেভারিট ব্রাজিল। কয়েকজন সমর্থক তো হার মানতে না পেরে মারাকানার ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

আজ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারানোর ম্যাচে অন্য এক আর্জেন্টিনাকে দেখা গেল। ট্যাকল, আক্রমণ কিংবা কাউন্টার অ্যাটাক- সব দিক থেকেই অনন্য ছিল মেসি ও তার সতীর্থরা।

আজকের জমজমাট ফাইনালে দুই দলই শারীরিক ফুটবল খেলেছে। ব্রাজিলের ২২টি ফাউলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা করে ১৯টি ফাউল। হলুদ কার্ড আর্জেন্টিনার ৫, ব্রাজিলের ৪।

ম্যাচের ২২ মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার নজরকাড়া গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর গোল পরিশোধ করতে খেলায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাননি নেইমাররা।

মধ্যবিরতির পর আক্রমণের পর আক্রমণ করে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে আট মিনিটে গোলও করে বসে। কিন্তু রিচার্লিশনের গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়ে যায়। এরপর গোল করতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৮৭তম মিনিটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আবারও চমক দেখান। সেমিফাইনালের মতো ব্রাজিলের চমৎকার একটি আক্রমণ দারুণভাবে রুখে দেন মার্টিনেজ। ব্রাজিলের খেলোয়ার গাবির শট দুর্দান্ত পাঞ্চে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

অতিরিক্ত ৫ মিনিট শেষ হলেও রেফারি যখন শেষ বাঁশিতে ফু দেন তখন মেসির চোখে আনন্দের অশ্রু। প্রিয় অধিনায়ককে ঘিরে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা উল্লাসে নেচে ওঠেন। মেসিকে বেশ কয়েকবার মাথার ওপরে ছুড়ে মারেন। সবাই বাঁধ ভাঙা আনন্দে নাচতে শুরু করেন এবং সবশেষে স্বপ্নের শিরোপায় চুমু খান লিওনেল মেসি।

Check Also

মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন

স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসি। ফুটবলের ম্যাজিক বয়। বার্সেলোনা থেকে বিদায় নিয়েছেন। আর বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে …

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ মেসি

স্পোর্টস রিপোর্টার: বার্সেলোনার জার্সি গায়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ডের দেখা পেলেন লিওনেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *