যুবলীগ নেত্রীর অন্ধকার রাজ্য, নানা আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক : শামীমা নূর পাপিয়া। ডাক নাম পিউ। নরসিংদী জেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। স্বামী মফিজুর রহমান সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন। এক সময় নরসিংদী জেলার ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। রাজনীতিতে প্রয়াত মেয়র লোকমানের অনুসারী ছিলেন তিনি। হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দলীয় পদপদবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা আর ব্লাকমেইলিং- এই তিনে মিলে অপরাধ সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই দম্পতি।

সমাজ সেবার আড়ালে অসহায় দেহব্যবসা, গোপন ভিডিও ধারণ করে প্রভাবশালীদের ব্লাকমেইলিং, অস্ত্র-মদের ব্যবসা, জাল টাকা- এসব করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন পাপিয়া। চলাফেরায় ছিলো রাজকীয় ভাব। বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে অভিজাত ফ্ল্যাট। নিজ জেলা নরসিংদী গেলে মোটসাইকেল মহড়া দিয়ে স্বাগত জানাতো তাদের পোষা বাহিনী। এসব মোটরসাইকেলও সরবরাহ করেছেন পাপিয়া।

ফাইভস্টার হোটেল থেকে শুরু করে নিজ এলাকাতেও খুলেছিলেন দেহব্যবসালয়। তাদের অবৈধ এসব ব্যবসা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রসার লাভ করে। তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। শনিবার সকালে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছেন তারা। তাদের সঙ্গে আটক হয়েছেন তাদের দুই সহকারীও।
আটক অন্য দু’জন হলো সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), শেখ তায়্যিবা (২২)। আটকের সময় শুরুতে পাপিয়া নিজের দাপুটে অবস্থানের পরিচয় দেন। তবে কোনো কিছুতেই রেহাই পাননি এ যাত্রায়।

পাপিয়া নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতার রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবিরও অপব্যবহার করতেন। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন।

পাপিয়া পাঁচ তারকা হোটেলে নারী ও মাদক ব্যবসা চালাতেন। এগুলোই তার আয়ের মূল উৎস। দেশের অভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরা এর গ্রাহক। ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে বসে খদ্দেরদের কাছে তাদের চাহিদামতো সুন্দরী তরুণী পাঠাতেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করতেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করতেন পাপিয়া। এরই মধ্যে পাপিয়ার কাছ থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি ধারণ করে তাদের নিয়মিতভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি।

পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়- পাপিয়া বসে আছেন বাইজিবাড়ির সর্দারনির মতো। তার হাতে মোটা একটি বেতের লাঠি। তার কব্জায় থাকা মেয়েরা কথা না শুনলে পেটাতেন। পাপিয়া একাধিক অভিজাত হোটেলের রুম ভাড়া নিতেন নামে-বেনামে।

রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে তিন মাসে তার খরচ ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রতিদিন শুধু মদের খরচবাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করতেন পাপিয়া।

শামিমা নূর পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে র‌্যাব জানায়, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেট এলাকায় অংশীদারিত্বে তার ‘কার একচেঞ্জ’ নামে একটি গাড়ির শো রুম আছে। এছাড়া নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াস অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টারও আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

Check Also

বিদেশে পাপিয়ার কোটি কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক: শামীমা নূর পাপিয়া অবৈধভাবে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। ওই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে তিনি …

এমপি-মন্ত্রীসহ যারা যেতেন পাপিয়ার মহলে

অনলাইন ডেস্ক : সদ্য বহিষ্কৃত নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার মহলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *