রাজাপুরে যুবমহিলা লীগ নেত্রীর বসতঘরে হামলা-লুটপাট

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরের পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিম হাওলাদার-মপা মেয়ে সদর ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক উম্মে আসমা সুখির বসতঘরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ভাঙচুর লুটপাট ও ঘরের লোকজনকে মারধর করে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে সদর ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক উম্মে আসমা সুখি অভিযোগ করে বলেন, রাজাপুর মৌজার ৪৭নং জে.এল ও ২২২২ নং এস.এ খতিয়ানের ১৪১৪ নং দাগের এবং ৫০৭৬ নং ডিপি খতিয়ানের পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মান করে ৫ বছর ধরে সুখী, তার বিধবা মা, তার ছেলে ও ছোট বোন কামরুন্নাহার তুলিকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ঘরের সকলে ঘুমন্ত অবস্থায় সুখীর সৎ ভাই প্রতিপক্ষ আলী হায়দার মহারাজ ও খিজির হায়াত বাদশা ২০/২৫ জন ভাড়াটিয়া স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা করে। ঘরের সামনের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন নিয়ে ভাঙচুর শুরু করে এবং মালামাল ও স্বর্ণালংকার, দুই লাখ লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে যুব মহিলা লীগের নেত্রী উম্মে আসমা সুখি, তার ছেলে শিশু আল আবিদ ও বোন কামরুন্নাহার তুলিকে টেনে হিচড়ে শ্লীলতাহানি করে বাসার সামনের রাস্তায় নামিয়ে হত্যার উদ্দেশে রামদা, হকিষ্টিক, চাইনিজ কুঠার ও লোহার রড দিয়া পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাড় ভেঙে দেয়। প্রতিপক্ষরা এ সময় বসতঘরখানা ভেঙে তছনছ করে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ আসামী খিজির হায়াত বাদশাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আবার সুখীরা বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে আসামিরা জামিনে এসে ফের হামলা ভাঙচুর ও জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।

অপরদিকে আসামি খিজির হায়াত বাদশার স্ত্রী জেসমিন বেগম বাদি হয়ে উল্টো স্বজন ও নির্যাতনের শিকার ৭ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। বর্তমানে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ মর্মে রাজাপুর থানায় ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জিডি (নং ৮০২) করেছে। জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত খিজির হায়াত বাদশা জানান, তার পিতা জীবিত থাকাকালিন বিরোধীয় এ জমিটি প্রথম ঘরের সন্তান বাদশা ও মহারাজকে দেয় এবং দ্বিতীয় ঘরের সন্তান সুখীদের পুরাতন বাড়িতে থাকতে বলে যায়। সে মতে বাদশা ও মহারাজের নামে রেকর্ড এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে ওই জমিতে কাজ করতে গেলে সুখী ও তার লোকজন বাধা দেয়, তা প্রতিহত করা হয়। কাউকে মারধর বা ভাঙচুর করার করা হয়নি। এছাড়া এখনও পৈতৃক জমি বন্টন করা হয়নি।

রাজাপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, আসামিরা জামিনে এসে হুমকি দিচ্ছ মর্মে বাদিপক্ষ থানায় জিডি করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *