রাতারাতি সর্দি-কাশি দূর করার জাদুকরী সমাধান

অনলাইন ডেস্ক: শীতের মৌসুম চলছে। এই সময় ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, গলাব্যথাসহ আরো অনেক ধরনের রোগ বাড়তে পারে। ধুলোবালি, ঠাণ্ডা আবহাওয়া ইত্যাদি কারণে কাশি হতে পারে। কাশি হলে ওষুধ না খেয়েও তা দূর করা সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়াভাবে কিছু বিষয় অনুশীলন করলে ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, গলাব্যথার মতো সমস্যা সহজেই দূরে রাখা সম্ভব। জেনে নিন সর্দি-কাশি দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়।

বিশ্রাম : ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে নিয়মিত কাজগুলো বাতিল করে ঘুমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং দ্রুত ফ্লু থেকে আরোগ্য লাভ করতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ : নাক, গলা মুখ আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে পানি এবং তরল জাতীয় খাবার। সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি স্যুপ, ডাব, হারবাল চা খেতে পারেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল জাতীয় খাবার এ সমস্যা দূর করে।

জিংক গ্রহণ : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি শরীরে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে যেটি জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ফ্লু ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মসুরের ডাল, ছোলা, বাদাম, শিমের বিচি, বীজ, দুগ্ধজাত খাবার এবং দুধ জিংকের ভালো উৎস।

লবণ পানিতে গার্গল : ফ্লুতে আক্রান্ত হলে স্বরভঙ্গ হতে পারে। এ থেকে মুক্তি পেতে দিনে কয়েকবার লবণ পানিতে গার্গল করতে পারেন। এতে কাশি এবং গলাব্যথা কমাতে সহায়তা করবে।

গরম পানিতে ভাপ নেয়া: সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে মুক্তি পেতে লবণ পানিতে গার্গল করার মতোই বেশ কার্যকর গরম পানিতে ভাপ নেয়া। উষ্ণ বাতাস সর্দি কমাতে এবং ফুসফুস সচল রাখতে সহায়তা করে। সকাল-বিকাল উষ্ণ পানিতে ভাপ নিয়ে ফ্লু থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হারবাল চা : রসুন, আদা, হলুদ এগুলোতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এই হারবাল চা দ্রুত ফ্লু থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। হারবাল চা গলাব্যথা থেকে মুক্তি দেয় এবং নাক পরিষ্কার রাখে। দারচিনি, লেবু এবং মধু : সর্দি কাশিতে একদম কাবু হয়ে গেছেন? কিছুতেই সারাতে পারছেন না? তাহলে সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে তা দূর করতেই হবে। তা দূর করার জন্য দারুচিনি, মধু ও লেবু একসঙ্গে মিশিয়ে সিরাপের মতো বানাতে পারেন। নিয়মিত তা সেবন করলে সর্দিকাশি সহজেই দূর হবে।

হলুদ এবং দুধ : শরীরে কোথাও আঘাত পেলে অনেকেই দুধে হলুদ মিশিয়ে পান করেন। এছাড়া এই পানীয়টি সর্দি-কাশি সারাতে দারুণ কাজ করে। তাই তো এই সময় সুস্থ থাকতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদ মেশানো দুধ পান করার পরামর্শ দেয়া হয়।

মধু, লেবুর রস ও গরম পানি : মধু, লেবুর রস এবং গরম পানি মিশিয়ে পান করলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই পেটের যেকোনো সমস্যা খুব সহজেই দূর হয়। এছাড়া এই পানীয়টি সর্দিকাশি দূর করতেও দারুণ কাজ করে।

মশলা চা : তুলসি, আদা, গোলমরিচ মিশিয়ে চা পান করলে শরীরের খুবই উপকার হয়। এই চা সর্দি, কাশি দূর করতে দারুণভাবে কাজ করে।

আমলকী : আমলকী শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন একটা করে আমলকী খেলে লিভারসহ শরীরের প্রতিটি অঙ্গ উপকৃত হয়। একইসঙ্গে সারিয়ে তোলে সর্দি-কাশির মতো নানান সমস্যা।

আদা-তুলসি : আদার রসের সঙ্গে তুলসি পাতা বাঁটা এবং মধু মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়। এছাড়াও, সর্দি সারাতে এটি দারুণভাবে কাজ করে।

আদা এবং লবণ : কয়েক টুকরো আদা কেটে তার মধ্যে লবণ মেশাতে হবে। এবার এই আদার টুকরো মুখে নিয়ে একটু একটু করে কামড়ে খেতে হবে। এতে সর্দি, কাশি এবং গলাব্যথা কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *