লকডাউনে কেমন আছেন সানি লিওন

বিনোদন ডেস্ক : একুশ দিনের লকডাউন। মানুষ স্বেচ্ছায় বলেন আর সরকারি নির্দেশনায় বলেন, গৃহবন্দি। এ সময়ে সবার জীবনাচরণ পাল্টে গেছে। যে মানুষটি সারাদিন আড্ডা, বন্ধুবান্ধব নিয়ে গল্পে মেতে থাকতেন তার কাছে এখন একটাই অবলম্বন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফোন। প্রতিটি মানুষ পাল্টে গেছেন। কিন্তু ভারতের এই ২১ দিনের লকডাউনে কেমন আছেন পর্নো তারকা থেকে বলিউডে স্থান করে নেয়া অভিনেত্রী সানি লিয়ন! তিনি নিজেই বলেছেন, স্বামী ডানিয়েল এবং তিনটি শিশু নিশা, নুহ এবং অ্যাশারকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ভারতে সেলিব্রেটিদের মধ্যে যারা প্রথম মুখে মাস্ক পরেছিলেন তার মধ্যে সানি লিয়ন অন্যতম। শুধু তিনি একা নন, তার পরিবারের সবাই মাস্ক পরে সংবাদ শিরোনাম হন।
লকডাউনে তার সময়টা কেমন কাটছে এ নিয়ে একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এখানে তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: করোনা ভাইরাস মহামারিতে জীবন কতটা পাল্টে গেছে সানি?

উত্তর: অবশ্যই সারা বিশে^র প্রতিটি মানুষের জীবন পাল্টে গেছে। সবার জীবন ধীর গতির হয়েছে। কিন্তু আমার সঙ্গে তিনটি ছেলেমেয়ে আছে। তাদেরকে আমি লালন করি। আছে আমার স্বামী ডানিয়েল। আমার ন্যানি। আমরা সবাই সারাদিন ব্যস্ত থাকি। বাসাকে পরিষ্কার রাখতে এবং বাচ্চাদের খাওয়াতে, বিনোদন দিতে আমরা বড় তিনজন একসঙ্গে কাজ করি। সবাই ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করি। বিষয়টা ক্লান্তিকর। তবু আপনি জানেন যে, যে প্রক্রিয়ায়ই হোক আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। তাই আমরা মজা করি।

প্রশ্ন: মুখে কেন মাস্ক পরানো হয়েছে অথবা কেন ঘরের দরজা বন্ধ তা কি বাচ্চারা বুঝতে পারে?

উত্তর: যেটার বয়স দু’বছর সে বুঝতে পারে না। কিন্তু আমি তাদেরকে প্রশিক্ষিত করে তুলেছি ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরতে হবে। তাদেরকে এতটাই ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি আমরা, যাতে তারা কোনো পার্থক্য বুঝতে না পারে। তারা বাইরের জগত দেখতে পাচ্ছে না। তাই আবার যখন তারা পার্কে যাবে বা স্কুলে যাবে বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাত করবে তখন তা তাদের কাছে হবে এক অতি আনন্দের বিষয়। এ জন্যই আমরা এখন তাদেরকে ব্যস্ত রাখছি। কিন্তু আমার মেয়েটির বয়স চার বছর। সে কিছুটা বুঝতে পারে কি হচ্ছে চারপাশে।

প্রশ্ন: এই ফ্রি সময়টাকে আপনি কিভাবে ব্যবহার করছেন?

উত্তর: আমার ফ্রি সময়টাকে তো আমি তিন সন্তানের জন্য উৎসর্গ করেছি। তাদেরকে ব্যস্ত রাখি। বাসা পরিষ্কার রাখি। এটা নিশ্চিত করি যে বাচ্চারা যাতে বিনোদন পায়। এটা নিশ্চিত করি যে, নিশার স্কুলওয়ার্ক শেষ হয়েছে। নিশ্চিত হই যে, ছেলেরা এখনও তাদের নাচ শিখছে। আমার বাসায় একটি ছোটখাট সুইমিং পুল আছে। সেখানে তারা যাতে প্রতিদিন সাঁতার কাটে, বাড়ির ভিতরে প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি করে, বাইক চালায় এটা নিশ্চিত করি। আবার উল্টো তারা আমাদেরকে রান্নায় সহায়তা করে, যদিও তারা খুব সামান্যই জানে এসব বিষয়। তবু তারা সহায়তার হাত বাড়ায়। এতে তাদের মধ্যে সহায়তার মনোভাব গড়ে উঠছে।

প্রশ্ন: ২১ দিনের এই লকডাউনে কোনো নতুন শখ বা কোনো নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন?

উত্তর: একটা পেইন্টিং করছি বর্তমানে। আরেকটা প্রজেক্টে হাত দিয়েছি। তাতে অনেক সময় লাগবে।

প্রশ্ন: এই ২১ দিনের লকডাউনের সময়ে যদি আপনার কাছে এমন সুযোগ থাকতো যে, আপনি ডানিয়েল এবং বাচ্চাদের বাদে অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, তাহলে ওই ব্যক্তি কে হতেন এবং কেন?

উত্তর: আমি শুধু আমার নিজেকে নিয়েই লকডাউন করতাম। অন্য কাউকে নিয়ে নয়। কারণ, আমি একেবারে নীরবতা খুব পছন্দ করি। তাতে আমি খুবই ভাল থাকতাম। কারণ, আমার মাথা ঠান্ডা রেখে চলার সক্ষমতা আছে। আমার পরিবারের সদস্য নয় এমন কেউ, যার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নেই তেমন কেউ হলে অথবা আমার কুকুর অথবা আমার ন্যানি, যারা আমার প্রকৃতপক্ষে খুবই ঘনিষ্ঠ, তারা আমাকে ক্রেজি করে তুলতো। তারা যতই ভাল হোক আমাকে ক্রেজি করে তুলতো।

প্রশ্ন: আপনার ইন্সটাগ্রামের পোস্টগুলো বাস্তবেই মজার আর সৃষ্টিশীল। বিশেষ কোনো দিনে এটা শেয়ার করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা কিভাবে নেন?

উত্তর: এই সময়ে আমি মনে করি আমরা সবাই একই অবস্থার শিকার। আমরা সবাই একই বিষয়ে ভাবছি। আমার তো মনে হয় না এখন এমন কেউ আছেন যিনি তার চুল বাইরে ঝুলিয়ে দিতে চান, শরীরটাকে মেরামত করতে চান। আমাদের মধ্যে এর সবই আছে। আমরা সম্ভাব্য উন্নত পছন্দের জন্য মজাদার ভিডিও শেয়ার দিতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *