শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে

অনলাইন ডেস্ক: ব্যাপক পরিবর্তন আসছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া পাঠ্যক্রমের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা ছাড়াও বাতিল হতে পারে মাধ্যমিকের বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগগুলো।

এ বিষয়ে শনিবার (১৪ নভেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় আনন্দ নিয়ে আসতে চাই। শিক্ষাটা হতে হবে আনন্দময়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের মাধ্যমে শিখবে। শুধুমাত্র পড়াশোনা করাচ্ছি, পরীক্ষা দিচ্ছি, সনদ দিচ্ছি। এমনিতেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা পরীক্ষা নির্ভর এবং সনদ সর্বস্ব। একইসঙ্গে আনন্দহীন। সেটি প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত।

সংখ্যায় নয়, শিক্ষায় গুণ ও মানের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আনন্দ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে। তারমধ্যে অনুসন্ধিৎসা জাগ্রত হবে। সে জ্ঞান অর্জনের আনন্দেই জ্ঞান অর্জন করবে, বাধ্য হয়ে নয়।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শেখ রাসেল জিমনেশিয়ামের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঠ্যক্রমের নতুন রূপরেখায় শুধুমাত্র দশম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে মাত্র পাঁচটি বিষয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা হবে দুটি ভাগে। একটি একাদশ শ্রেণীতে এবং অপরটি দ্বাদশ শ্রেণীতে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, পিইসিই এবং জেএসসি পরীক্ষা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেক চাপের মধ্যে রাখে। এর পরিবর্তে বিদ্যালয়ে নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে।

এদিকে জাতীয় পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যক্রম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, আমরা দশম শ্রেণির আগে কোনও পাবলিক পরীক্ষার প্রস্তাব দেইনি। তবে সরকার যদি এর আগে কোনও পাবলিক পরীক্ষা নিতে চায় তো নিতে পারে।

তিনি জানান, নতুন পাঠ্যক্রমটিতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।

শিক্ষার আধুনিকীকরণের কোনও বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, স্কুলের সব ক্লাস শেষ করে একটি পাবলিক পরীক্ষা হওয়া উচিত। অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষাই যথেষ্ট।

জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের ওপর। বাকি মূল্যায়ন হবে স্কুলেই।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ নেই। স্কুল লেভেলের সব শিক্ষার্থীর একই জ্ঞান থাকা উচিত।

নতুন রূপরেখায় স্কুলের সাপ্তাহিক ছুটি শুধুমাত্র শুক্রবারের পরিবর্তে শুক্র ও শনিবার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *