সবজি চাষে স্বাবলম্বী ঝালকাঠির আব্দুল হক তালুকদার

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির, ঝালকাঠি থেকে: সবজি চাষে স্বাবলম্বী ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান গ্রামের চাষিরা। চলতি মৌসুমে এ এলাকায় বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প শোনালেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিড়ি ইউনিয়নের গাবখান গ্রামের আব্দুল হক তালুকদার।

সরজমিনে গেলে চাষি আব্দুল হক তালুকদার জানান, বেকারত্ব জীবন ও দরিদ্র বাবার সংসারের ঘানি টেনে পড়া লেখা করতে পারিনি। তাই সবজি চাষে মনোযোগী হই। প্রথমে অন্য লোকের জমিতে কাজ করতাম। পরে ২ বিঘা জমি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সবজির চাষ শুরু করি।

তিনি বলেন, ঝালকাঠি বাজারে সবজির চাহিদা ভালো থাকায় প্রথমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ম্যাজিক সীম, শশা, পেপে, জালিকুমড়া, মুলা, লাল শাক, বেন্ডি, টমেটো, লাউ ও খিরই চাষ করি। এসব সবজি বিক্রি করে বেশ লাভ হতে থাকে।

আব্দুল হক বলেন, ১০ হাজার টাকা খরচ করে এক মৌসুমে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করি। তিনি জানান, এখন সারা বছরই জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ হয়। সবজি চাষ করে বর্তমানে তার সংসার চলে। বর্তমানে তিনি তার জমিতে শীতকালিন সবজি, শষা ও খিরই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকাবাসির মতে আব্দুল হক একজন আদর্শ সবজি চাষি।

তার দেখাদেখি এলাকায় অনেকেই সবজি চাষে ঝুকে পড়েছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে সবজি কিনে গ্রামগঞ্জ ও শহরের বাজারে বিক্রি করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর প্রায় এক লক্ষ টাকা বেচা কেনা করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরো জানান, সবজি চাষে সহযোগিতা করেন তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা। চাষি আব্দুল হক তালুকদার আরো জানান, ২৫ বছর ধরে সবজি চাষে নিয়োজিত থাকলেও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে একবারও বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক পাননি বা দেয়া হয়নি। ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে সুখী জীবনযাপন করছেন আব্দুল হক তালুকদার। তিনি সরকারী অনুদান সহ কৃষি খামার বাড়ির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাকে যেমন রেখেছে তেমই থাকতে চাই। আমার জমিতে ফসল আল্লাহর ইশারায় হয়, আল্লাহর উপর আমার ভরসা আছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিফাত সিকদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমরা কোথায় কি ফসল হয়েছে সেটা জানিনা। হ্যাঁ, যদি কোনো ধরনের সমস্যা হয় তাহলে আমাদের জানালে আমরা সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারি বা আমাদের প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক কমিটি বা বেøাগ আছে এদের জানালে তারা দেখে আমাদের অবহিত করবে। আর আমাদের কৃষি অফিস থেকে কোনো কীটনাশক দেয়া হয় না। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা তালিকা দেয় তাদের সার দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *