সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় বুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘না’

স্টাফ রিপোর্টার: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় না গিয়ে আগের মতো নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে চায় প্রকৌশল বিষয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপীঠ। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে বুয়েটের স্বকীয়তা বজায় রেখে আগের মতো ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে একমত হন সকলে। গতকাল বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে- যেভাবে আমরা ইতিপূর্বে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি আগামীতেও সেভাবে নেব। অধ্যাপক মিজান বলেন, আমরা যেভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আসছি সেই পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন উঠেনি। আমাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রতি সকলের আস্থা আছে।

আমরা মনে করি আমরা সবচেয়ে বেটার ওয়েতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছি। এটাই আমাদের জন্য ভালো। এর আগে গত ২৩শে জানুয়ারি দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ ৫টি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। এ জন্য তারা নতুন এ পদ্ধতিতে যাওয়ার বিষয়ে কোনো কথা দেয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা আগের নিয়মেই হবে। তবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নেয়া সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তা পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের ২৩৮ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার কে এম নুর আহমদ। সূত্র জানায়, সভায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পক্ষে -বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বিচ্ছিন্ন ভর্তি পরীক্ষার শ্রম, অর্থ ও সময়ের ব্যয় কমাতে যে মত দিয়েছেন, তার প্রতি সম্মান জানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্রবোধ, ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশের বিষয়টিকেও অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ের আলোচনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *