হেফাজতের আমির নির্বাচিত হওয়ার পর যা বললেন বাবুনগরী

অনলাইন ডেস্ক: আমি এ পদ চাইনি। মুরব্বিরা জোর করে আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন এ দায়িত্ব পালন করতে পারি। হেফাজতের আমির নির্বাচিত হবার পর এমন মত ব্যক্ত করেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সম্মেলন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন মত প্রকাশ করে হেফাজতের নতুন আমির বলেন, আমার প্রাণ প্রিয় রাসুল (স:) কে যারা অবমাননা করে যেন তাদের কবর রচনা করতে পারি সেভাবে আমাকে দোয়া করবেন। একইভাবে নব নির্বাচিত হেফাজতের মহাসচিব নুর হোসাইন কাসমী বলেন, কাদীয়ানি সম্প্রদায় হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টানদের মতো অমুসলিম। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তের পর অনুষ্ঠানে হেফাজতের সাবেক যুগ্ন মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লার এক সমর্থক আল্লামা শফীপন্থিরা কেন পদ পায়নি জানতে চাইতে গেলে সম্মেলনস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে বাবুনগরীর সমর্থকরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন শুরু হয়। শুরুতে হেফাজতের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে আহবায়ক করে ১২ সদস্যের সম্মেলন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। তাদের পরিচালনায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক হেফাজতের সাবেক মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরীকে হেফাজতের আমির এবং হেফাজতের সাবেক ঢাকা মহানগর সভাপতি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীতে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

সম্মেলনে নায়েবে আমির নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে আগের পদে বহাল রাখা হয় আজিজুল ইসলাম হক ইসলামাবাদীকে। প্রচার সম্পাদক করা হয় জাকারিয়া নোমান ফয়জীকে। আর যুগ্ম মহাসচিব করা হয়-জুনায়েদ আল হাবীব, মওলানা মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন মনির, মীর ইদ্রিসকে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আল্লামা হারুন ইজহার। সম্মেলনে মোট ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপদেষ্টা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন ২৫ জন, নায়েবে আমির পদে ৩২ জন, যুগ্ম মহাসচিব পদে সাতজন ও সহকারী মহাসচিব পদে ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে হেফাজতের প্রায় ৪ শতাধিক নেতা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনকে ঘিরে হাটহাজারী মাদ্রাসা ও আশেপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মেলনে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন কেবল তাদের ভাষায় নির্ধারিত শীর্ষ মুরব্বিরা। এর বাইরে শত শত নেতাকর্মী হাটহাজারী মাদরাসার অভ্যন্তরে ও আশপাশে অবস্থান নেয়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির ইন্তেকালের পর হেফাজত আমিরের পদ শূণ্য হওয়ায় নতুন আমির নির্বাচনের জন্য এ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। প্রতিষ্ঠার দশ বছর পর প্রথমবারের মত আয়োজিত এই সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি ছিল নানা শংকাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *