১০০ বছরে এরকম নির্বাচন দেখা যায়নি

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের গত ১০০ বছরের কোনো নির্বাচনকে যদি পর্যবেক্ষণে আনা হয় তাহলে এরকম অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আর কখনো দেখা যায়নি এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের ভোটাধিকার বুটের তলায় পিষ্ট করেছিল। বিএনপি কখনোই জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে, বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এই অভিযোগগুলো দেখে আমার বিশ্বাস-সকলের মধ্যে এটা ধারণা হয়েছে, মির্জা ফখরুল এই অভিযোগগুলো আগেই লিখে রেখেছিলেন।

উনি কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপন করলেন,যেগুলো হাস্যকর। তিনি বলেন, বিএনপির সব অভিযোগ কেবল মিথ্যাচারে ভরা। এর কোন ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, আজকে যখন শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সেই ভোটের পরে বিএনপি তাদের পরাজয়ের আশঙ্কা করে আগে ভাগে কিছু অভিযোগ করার জন্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছে। কোথায় বিএনপ্থির পোলিং এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে, কোথায় বের করে দেয়া হয়েছে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,একটা জায়গায় এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি যে কাউকে মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। বিএনপ্থির সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে কোন কোন জায়গায় তাদের এজেন্টরা আসেনি বলেও শুনতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই যে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ফখরুল সাহেব গণমাধ্যমে করেছেন..এই মিথ্যাচারে কান দেবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা ফখরুল সাহেবকে আহ্বান জানাবো আপনি যে উক্তি করেছেন তার পেছনে যদি কোন প্রমাণ থাকে সেই প্রমাণ জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। যদি প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে আপনাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এই মিথ্যাচারের জন্য। মোহাম্মদপুরে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা ঘটনার কথা আমাদের কানে এসেছে। মোহাম্মদপুরে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কিছুটা গোলযোগ হয়েছে। সেটা বিএনপি সমর্থিত একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে। এটার সঙ্গে সরকারদলীয় কোন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা সরকার দলীয় কোন মেয়রপ্রার্থী জড়িত নয়। এটা বিএনপি সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজেশ নামের যে প্রার্থী মোহাম্মদপুরের তার সঙ্গে তার কিছু দ্বন্দ্ব বা হাতাহাতি হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে ভোটার এবং ভোট গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব প্রাপ্ত ও কর্তব্যরতদের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে বিএনপিকে দুই সিটি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোট লড়াইয়ের মাঠে ঠিকে থাকার জন্যও বিশেষভাবে বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মনি, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *