২৬ বছর ধরে ম্যানহোলেই বাস দম্পতির!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পৃথিবীতে একদল মানুষ রয়েছে যাদের সকল চাহিদা পূরণ হওয়ার পরও তাদের অপুর্ণতায় ঘেরা জীবন, আর একদল মানুষ রয়েছে যারা শূন্যতাতেও পুর্ণতা খুঁজে পায়। আর এই মানুষগুলোই নিজেদের সুখী মানুষ বলে অ্যাখ্যা দিতে পারে। কেউ দশ তলায় বাস করেও শান্তিতে ঘুমাতে পারে না, কেউ আবার ম্যানহোলেই সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের সুখের রাজ্য। তেমনই এক সুখি দম্পতি মিগুয়েল রেসট্রিপো এবং মারিয়া গার্সিয়া।

অভাব এলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। সচরাচর এই কথাটি আমরা শুনে থাকি। কিন্তু মিগুয়েল রেসট্রিপো এবং তার স্ত্রী মারিয়া গার্সিয়ার ভালোবাসার কাছে এই প্রবাদ বাক্যটি হার মেনেছে।

সাড়ে চার ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ম্যানহোলে স্ত্রী মারিয়া এবং একটি পোষা কুকুর নিয়ে বাস করেন ঘরবাড়িহীন নিঃস্ব মিগুয়েল। এক দুই দিন নয় কলোম্বিয়ার এই দম্পতি ২৬ বছর ধরে এই ম্যানহোলে বাস করছেন।

ম্যানহোলের নিচেই এই দম্পতির স্বপ্নের সংসার। ঘুম থেকে উঠেই চোখ খুলে দেখেন গোল ছোট আকাশ। আর শুরু হয় ম্যানহোলের নিচে তাদের সংসারের কাজ। বৃষ্টি এলে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে সব ভিজিয়ে দেয়। তবু এই জীবন নিয়ে তাদের নেই কোনো অভিযোগ। এটাই তাদের ভালোবাসার ঠিকানা।

তবে সারাক্ষণ একটিই আশঙ্কার মধ্যে তারা দিন পার করেন। কখন সরকারি কর্মকর্তারা এসে মিগুয়েলদের ম্যানহোল ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে বলেন।

সংঘর্ষ-সংঘাত ও মাদক পাচারের জন্য কুখ্যাত মেডেলিন এলাকায় দেখা হয় মারিয়া ও মিগুয়েলের। ওই সময় দুজনই ছিলেন মাদকাসক্ত। যখন মাদকের ছোবলে ধ্বংস হচ্ছিল তাদের জীবন, সেই মুহূর্তে পরস্পরের সান্নিধ্যে ভিন্নভাবে বাঁচার প্রেরণা খুঁজে পান দুজন এবং সিদ্ধান্ত নেন তারা মাদক ছেড়ে দেবেন। তবে আশ্রয় দেয়ার মতো দুইজনের পরিবার-পরিজন কেউ ছিল না।

যাতায়াতের পথে শুকনো পরিত্যক্ত ম্যানহোলটা দেখেই পছন্দ হয়ে যায় দুজনের। মনে মনে ঠিক করে ফেলেন এই ম্যানহোলেই গড়ে তুলবেন নিজেদের সংসার। ম্যানহোলের ভেতরটা পরিষ্কার করে সেটাকেই থাকার উপযোগী করে তোলেন মারিয়া ও মিগুয়েল। এখানেই তারা সম্পূর্ণভাবে মাদকের মরণ-নেশা থেকে বেরিয়ে আসেন। পেয়ে যান নতুন জীবনের সন্ধান।

এই একচিলতে জায়গার মধ্যেই রয়েছে ছোট্ট রান্নাঘর, বিছানা, চেয়ার, রঙিন টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক পাখা। এছাড়াও উৎসব ও ছুটির দিনগুলোতে সুন্দর করে ঘরও সাজান তারা।

মিগুয়েল মনে করেন তিনি এই ম্যানহোলে কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের চেয়েও ভালো জীবনযাপন করেন। তিনি এর চেয়ে আর বেশি কিছু চাননা। শুধু তার একটাই আবেদন তিনি যেন মৃত্যু পর্যন্ত এখানেই থাকতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দম্পতির খবর প্রকাশের পর রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *